Skip to main content

যে পাঁচটি কারণে ভারতকে হারাতে পারে বাংলাদেশ



আজকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় সেমফিাইনালে ভারতের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ। বিশ্বের যেকোনো দলের বিপক্ষে আপসেট ঘটানোর ক্ষমতা এবং ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার ক্ষতা টাইগারদের রয়েছে।
আইসিসি র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটটি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। যদিও বৃষ্টির কারণে কিছু ম্যাচে বিঘ্ন ঘটেছে, তার পরও কোনো ম্যাচে কম উত্তেজনা ছিল না।
সেমিফাইনালে আগামীকাল বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার ম্যাচটি নিয়ে নিয়ে চলছে দারুন উত্তেজনা। যদিও ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে ভারত। তথাপি বিরাট কোহলির দলকে হারিয়ে রোববার অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে যাওযার মতো বিস্ময় ঘটাতে পারে বাংলাদেশ।
গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের কারণ হতে পারে পাঁচটি :
# তামিম ইকবালের ফর্ম :
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মত বিশ্ব আসরের কোন টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকাটা সব সময়ই যে কোন দলের জন্য একটি বাড়তি সুবিধা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলের বেলায় একটি নাম হতে পারে তামিম ইকবাল। যিনি টপ অর্ডারে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
চলমান টুর্নামেন্টে একমাত্র নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শূন্য রানে আউট হওযা ছাড়া বাম হাতি এ ওপেনার অন্য সব ম্যাচেই বড় স্কোর গড়েছেন। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে দলের দায়িত্ব নিজ কাঁধে নেয়ার সক্ষমতার প্রমান বহুবার তিনি দিয়েছেন।
টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংর‌্যান্ডের বিপক্ষে তার সেঞ্চুরির সুবাদে তিনশ রানের বেশি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার করা ৯৫ রানের সুবাদে টাইগাররা লড়াই করার পুঁজি পেয়েছে। ভারতকে হারাতে চট্টগ্রামের এ ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে আরেকটা বড় ইনিংস আশা করছে বাংলাদেশ।
# ব্যাটসম্যানদের চাপ নেয়ার ক্ষমতা :
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে অনেক দলই চাপের মধ্যেও ভাল খেলে দলকে জিতিয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বড় দলগুলোর বিপক্ষে বহুবার তার প্রমাণ দিয়েছেন। টাইগারদের মিডল অর্ডারে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের কাছ থেকে অনেক বড় কিছু পেয়েছে দল। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তারা কেবল খারাপ অবস্থা থেকে দলকে টেনে তোলেননি, একই সাথে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন।
টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত ভারতের বোলিং আক্রমণ বিভাগ বেশ ভাল করেছে এবং বাংলাদেশ দলকেও তারা চাপে রাখবে। তবে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ম্যাচ জিতিয়ে আনার মত খেলোয়াড় বাংলাদেশ দলে রয়েছে।
# বড় টুর্নামেন্টে জায়ান্ট কিলার
বাংলাদেশ হয়তোবা বড় কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে এখনো পারেনি। কিন্তু বিভিন্ন টুর্নামেন্টে যথাসময়ে ঝলসে উঠে ঠিকই নকআউট পর্বে উঠে এসেছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে ভারতকে পরাজিত করেছে। যে কারণে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে পড়তে হয়েছিল ভারতের।
২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপে এই বাংলাদেশর কাছে হেরেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ জয় এসেছিল ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ইংলিশদের হারিয়ে কোয়ার্টারফাইনালে উঠেছিল টাইগাররা। কাগজে এবং ফর্মের দিক থেকে যদিও ভারত শক্তিশালী। তথাপি ‘অবশ্যই জয়’ ম্যাচে চাপের কারণে তারা অনেকটা নার্ভাস থাকতে পারে এবং বড় টুর্নামেন্টে সেটা কাজে লাগানোর সবধরনের গুণাবলী বাংলাদেশ দলের আছে।
# ডার্ক হর্স : প্রত্যাশা কম থাকবে :
টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ে এককভাবে ফেবারিট ভারত এবং লীগ পর্বের ম্যাচগুলোতে তারা সে প্রমাণও দিয়েছে। বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার চাপটা বিরাট কোহলির দলের ওপরই বেশি থাকবে।
পক্ষান্তরে বাংলাদেশ প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলবে এবং তাদের ওপর কোন চাপ থাকবে না, তারা আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামবে। সেহেতু এই আন্ডারডগ তকমাটাই তাদের জন্য একটি সুবিধা হিসেবে কাজ করতে পারে। কেননা, কোন চাপ না থাকলে যেকোন দলই নির্ভয়ে খেলতে পারে।
ক্রিকেট বিশ্ব ভারতের জয়ই প্রত্যাশা করবে। তবে মাশরাফির দল ফাইনাল খেলার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক জয়ের জন্য সব কিছুই করবে।
#পার্টটাইম বোলার :
কখনো কখনো প্রধান বোলারদের চেয়ে পার্টটাইম বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যাটসম্যানরা পার্টটাইমারদের গ্রাহ্য কম করায় তাদেরকেই উইকেট বিলিয়ে দেয়। টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ খুঁজে পেয়েছে ডান হাতি অফ ব্রেক বোলার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কিউইদের মেরুদ- ভেঙ্গে দিয়েছেন এ পার্টটাইমার। মাত্র তিন ওভারে নিউজিল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট শিকার করেছেন সৈকত।

Comments

Popular posts from this blog

দেখে নিন বিপিএলের পয়েন্ট টেবিল

বিপিএল মানে ঢাকার রাজত্ব। রাজধানীর দলটাই সবচেয়ে বেশি ছড়ি ঘুরিয়েছে বিপিএলে। চারবারের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন তারা, মাঝে একবার কুমিল্লা নিজেদের ঘরে নিয়ে গেছে শিরোপা। এবারও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস বেশ প্রত্যয়ের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। এখনো বিপিএলের অনেকটা পথ বাকি। সামনে সমীকরণ অনেক বদলেও যেতে পারে। ঢাকা পর্ব শেষে এবার বিরতি। শুরু হবে চট্টগ্রাম পর্ব। তার আগে দেখে নিন বিপিএলে দলগুলো কে কোথায় অবস্থান করছে। দল ম্যাচ জয় পরাজয় টাই/পরিত্যক্ত পয়েন্ট কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ৬ ৫ ১ ০/০ ১০ ঢাকা ডায়নামাইটস ৮ ৪ ৩ ০/১ ৯ খুলনা টাইটানস ৭ ৪ ২ ০/১ ৯ সিলেট সিক্সার্স ৮ ৩ ৪ ০/১ ৭ রংপুর রাইডার্স ৬ ৩ ৩ ০/০ ৬ রাজশাহী কিংস ৭ ২ ৫ ০/০ ৪ চিটাগং ভাইকিংস ৬ ১ ৪ ০/১ ৩

অবাঞ্ছিত স্পর্শ, নায়ককে কষিয়ে চড় রাধিকার

অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে মানেই সব সময় আলোচনা-সমালোচনা। কিছুদিন আগে ছোট পোশাকে সমুদ্র সৈকতে হেঁটে সবার নজরে পড়েন। হরহামেশাই আলোচনায় থাকা বলিউডের এ অভিনেত্রী শুটিং সেটে নায়ককে কষিয়ে চড় মেরেছিলেন। সম্প্রতি আরেক বলিউড অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়ার এক টকশো’তে এমনটাই জানালেন তিনি। কারণ তার শরীরের হাত দিয়েছিলেন ওই অভিনেতা। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘প্যাডম্যান’ তারকা রাধিকা আপ্তে একটি তামিল সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে সহ অভিনেতার কাছ অশ্লীল ব্যবহার পেয়েছেন। শুটিংয়ের শুরুর সময় ওই নামী অভিনেতা নাকি আচমকাই তাঁর ঘনিষ্ঠ হতে চাচ্ছিলেন। ওই সময় বিনা অনুমতিতে ওই অভিনেতা রাধিকার পায়ের পাতা স্পর্শ করতে শুরু করেন। রাধিকার অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই ওই অভিনেতা বারবার তাঁকে স্পর্শ করতে শুরু করেন। উপায় না দেখে উপস্থিত সবার সমানে ওই জনপ্রিয় অভিনেতাকে কষিয়ে চড় মারেন ‘অন্তহীন’ ও ‘অহল্যা’ তারকা রাধিকা। এ কাণ্ডে থতমত হয়ে যান সেই দক্ষিণী অভিনেতা। শুটিংয়ের প্রথম দিনই এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল বলে সম্প্রতি একটি টক শো মন্তব্য করেন রাধিকা আপ্তে। ওই টক শোয়ে রাধিকার সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা রাজকুমার রাও। সেখানে রাধ...

সেরা ব্রাভো কিন্তু শেষের নায়ক সেই সাইফউদ্দিন

আরেকটি শেষ ওভার, আবারও সাইফউদ্দিনের হাতে বল। মাত্র চার দিন আগে শেষ ওভারে ৩২ রান দিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আজ ঢাকা ডায়নামাইটসের জয়ের জন্য দরকার ছিল এর চেয়েও কম। আবারও অসীম চাপ, ভেঙে পড়বেন না তো সাইফউদ্দিন? কিসের চাপ। ঠান্ডা মাথায় সব সামলে নিলেন সাইফউদ্দিন। ১২ রানে ম্যাচ জিতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসও নিশ্চিত করে ফেলল প্লে অফে ওঠা। ম্যাচসেরার পুরস্কারটা হয়তো ডোয়াইন ব্রাভোর কাছেই গেছে। কিন্তু ম্যাচটা কুমিল্লার দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন সাইফউদ্দিন।   অন্য প্রান্তে উইকেট পতনের মিছিল হলেও সব সামলে রানরেট ধরে রেখেছিলেন জো ডেনলি। ত্রয়োদশ ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে এসেই দারুণ এক বলে বোল্ড করলেন ডেনলিকে। ম্যাচ থেকে এক প্রকার ছিটকে পড়ল ঢাকা। কাইরন পোলার্ড ফোঁসফাঁস করেও ছোবল মারতে পারেননি ব্রাভোর কারণে। ঢাকা ইনিংসের মেরুদণ্ড শেষ করে দিয়েছেন ব্রাভো। পোলার্ডের আগেই ফিরিয়েছেন সাকিব ও নারাইনকে। তবু শেষ ওভারে ২১ রানের সমীকরণ পেয়ে গিয়েছিল ঢাকা। প্রথম দুই বলেই দুটি সিঙ্গেল, তৃতীয় বলে জহুরুল ইসলামকে বোল্ড করে দিলেন সাইফউদ্দিন। ড্যারেন স্যামির বিপক্ষে দেওয়া ৩২ রানের দুঃস্বপ্ন মুছতে মাত্র ৪ দিনই সময় ...